“আমি বাঁচতে চাই”— কিডনি বিকল ছেলের আর্তনাদ, অসহায় পরিবারের সাহায্যের আবেদন।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচান। নন্দনপুর গ্রামে গেলে এই কাতর আত্মনার্দ ভেসে আসবে কানে।কেন এমন গলাফাটা কান্না ? শুনলে চমকে উঠতে হবে।
গঙ্গারামপুর থানার থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দুরে নন্দনপুর গ্রাম। নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা যুগল বিশ্বাস। স্ত্রী সুমিত্রা বিশ্বাস সহ দুই ছেলে অভিজিৎ ও ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসকে নিয়ে তাদের সংসার। যুগল পেশায় শ্রমিক হলেও সুখের সংসার ছিল। অভিজিৎও একটি ফার্মাসিস্টের দোকানে কাজ করে বাবাকে সহযোগীতা করছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালে যুগলের পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। ২০২১ সালে বিশ্বাস দস্পতির বড় ছেলে অভিজিৎ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবার পর পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখা যায় হলে অভিজিৎ দুটি কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছে। ছেলেকে বাঁচাতে সংসারের ঘটিবাটি বিক্রি করে দিয়ে যুগল বাবু চিকিৎসা করাতে ব্যাঙ্গালুরুতে নিয়ে যান। কিন্তু কিডনির চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় মাঝ পথে ফিরে আসতে হয়। এরপর কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিজিতের চিকিৎসা চলে। কিন্তু গত পাঁচ বছর যাবত ছেলের চিকিৎসা চলায় একেবারে নি:শ্ব হয়ে গিয়েছে যুগল।
তবুও ছেলেকে বাঁচাতে রাত দিন পরিশ্রম করে ডায়ালিস করার টাকা জোগাড় করছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। প্রায় এক মাস আগে টোটো উল্টে হাত ভেঙে যায় এক মাত্র রোজগারের ব্যক্তি যুগলের। অর্থের অভাবে ভাঙা হাতের অপারেশন বা চিকিৎসা করানো তো দুরে থাক। রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়াও এক রকম না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে শরীর রুগ্ন হয়ে গিয়েছে। চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলে মা সুমিত্রা।
বিশ্বাস দস্পতির ছোটো ছেলে ইন্দ্রজিৎ বিএ পাশ করার পর বিএড করেছে। কিন্তু কোনো কাজ জটেনি। এতে একদিকে কাজ না জোটার যেমন হতাশা। অপর দিকে দাদার ও বাবার চিকিৎসা করার টাকা জোগাড়ের দু:চিন্তায় সেও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। স্বামী সহ দুই যুবক ছেলেকে এনিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে সুমিত্রা দেবী।
যুগলের বাড়ি গেলে দেখা যাবে পাট কাটির বেড়া দেওয়া ঘর। তাও আবার উইপোঁকা ধরে বেড়া নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর এই উইপোঁকা ধরা বেড়ার ফাঁক থেকে প্রায় ২৭ বছর বয়সি অভিজিতের আত্মনার্দ ভেসে আসে আমি বাঁচতে চাই,আমাকে বাঁচান।
পেটে খিঁদে থাকলেও তা কোনো দু:খ বা কারো প্রতি রাগ নেই যুগল ও সুমিত্রা দেবীর। তাঁরা চায় ছেলেকে বাঁচাতে। শত ছিদ্র ভাঙা টিনের চাউনিতে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বাঁচাতে সরকারি সহ সহৃদয় ব্যক্তিদের সাহায্যের দাবি তুলেছেন।
আমাদের চ্যানেলে প্রতিবেদনটি দেখার পর যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়াতে। এবি অভিজিতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাহলে এই নম্বর যোগাযোগ করতে পারেন। নম্বরটি হল 6294518883

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *