
উপকরণ:-
ভেটকি মাছের ফিলে – ৬ টুকরো
সর্ষে বাটা – ৪ চামচ
নারকেল বাটা – ৩ চামচ
পোস্ত বাটা – ২ চামচ
কাঁচালঙ্কা – ৮টি
সর্ষের তেল – ৫ চামচ
হলুদ গুঁড়ো – ½ চামচ
লবণ – স্বাদমতো
কলাপাতা – ৬ টুকরো
সুতো – বাঁধার জন্য
বিস্তারিত প্রণালী:-
প্রথমে ভেটকি মাছের ফিলেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে জল শুকিয়ে নিন। মাছের মধ্যে কাঁটা থাকলে সাবধানে বের করে নিন। পাতুরি তৈরির জন্য নরম ও পরিষ্কার ফিলে ব্যবহার করলে রান্না আরও সুস্বাদু হয়।
এবার একটি বড় বাটিতে সর্ষে বাটা, নারকেল বাটা, পোস্ত বাটা, হলুদ, লবণ এবং সর্ষের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এর মধ্যে ৪–৫টি কাঁচালঙ্কা বেটে দিলে ঝাঁঝ আরও সুন্দর হবে। মিশ্রণটি খুব বেশি ঘন হলে সামান্য জল দিতে পারেন, তবে পাতলা করবেন না।
এরপর মাছের প্রতিটি টুকরোতে এই মশলার পেস্ট ভালোভাবে লাগান। খেয়াল রাখবেন যেন মাছের প্রতিটি পাশে সমানভাবে মশলা মাখানো থাকে। এবার অন্তত ৩০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এতে মশলার স্বাদ মাছের ভিতরে ঢুকে যাবে।
এখন কলাপাতা প্রস্তুত করতে হবে। কলাপাতা ছোট ছোট আয়তাকার টুকরো করে কেটে নিন। এরপর গ্যাসের হালকা আঁচে কয়েক সেকেন্ড ঘুরিয়ে নিন যাতে পাতাগুলো নরম হয়ে যায় এবং ভাঁজ করলে না ছিঁড়ে।
প্রতিটি কলাপাতার মাঝখানে সামান্য সর্ষের তেল মাখিয়ে নিন। এবার একটি মাছের টুকরো রাখুন। ওপরে অতিরিক্ত মশলা ছড়িয়ে দিন এবং একটি বা দুটি কাঁচালঙ্কা রেখে দিন।
এখন কলাপাতাটি চারদিক থেকে মুড়ে প্যাকেটের মতো বানিয়ে নিন। সুতো দিয়ে হালকা করে বেঁধে দিন যাতে রান্নার সময় খুলে না যায়।
সব পাতুরি তৈরি হয়ে গেলে একটি তাওয়া বা ননস্টিক প্যান গরম করুন। তাওয়ায় সামান্য তেল ব্রাশ করে পাতুরিগুলো সাজিয়ে দিন। খুব কম আঁচে ঢেকে ১০ মিনিট রান্না করুন। এরপর উল্টে দিয়ে আবার ১০–১২ মিনিট রান্না করুন।
রান্নার সময় কলাপাতার ভিতর থেকে সর্ষে ও মাছের সুগন্ধ বের হতে শুরু করবে। এই গন্ধই পাতুরির আসল বৈশিষ্ট্য।
চাইলে এটি স্টিমারেও রান্না করতে পারেন। সেক্ষেত্রে স্টিমারে ১৫–২০ মিনিট ভাপে রাখলেই হবে।
রান্না শেষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিন। এতে মাছের ভিতরে মশলার স্বাদ আরও ভালোভাবে বসে যায়।
️ পরিবেশন:-
গরম ভাতের সঙ্গে ভেটকি পাতুরি পরিবেশন করুন। ওপরে সামান্য কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে দিলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়। পাশে কাঁচালঙ্কা ও লেবু রাখলে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি স্বাদ সম্পূর্ণ হয়।












Leave a Reply