দক্ষতা বাড়াতে ৩.৫ লক্ষ সরকারি কর্মীকে প্রশিক্ষণ, iGOT Karmayogi-তে যুক্ত করার নির্দেশ।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সরকারি কর্মীদের দক্ষতা ও প্রশাসনিক কাজের মান আরও বাড়াতে এবার প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ জোর দিল রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক কাজের ধরন অনুযায়ী কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রের চালু করা iGOT Karmayogi অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত সরকারি কর্মীদের যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী দিনে রাজ্যের প্রায় ৩.৫ লক্ষ সরকারি কর্মীকে এই অনলাইন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় সমস্ত দফতর এবং তাদের অধীনস্থ অফিসগুলিকে এই কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কেন্দ্রের ‘মিশন কর্মযোগী’-র আওতায় সরকারি কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং তাঁদের কাজের ধরন অনুযায়ী দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই iGOT Karmayogi প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নেতাজি সুভাষ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (NSATI)-কে রাজ্য নোডাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে সাতটি দফতর

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের অধীনস্থ সমস্ত কর্মীকে, সংযুক্ত ও অধীনস্থ অফিস-সহ দ্রুত iGOT Karmayogi প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছে—

  • স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর
  • অর্থ দফতর
  • কৃষি দফতর
  • স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর
  • পূর্ত দফতর
  • সেচ ও জলপথ দফতর
  • কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর

পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্যের অন্যান্য দফতরের কর্মীদেরও এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

প্রতিটি দফতরে নোডাল অফিসার

iGOT Karmayogi-তে কর্মীদের যুক্ত করার পাশাপাশি অধীনস্থ এবং মাঠপর্যায়ের অফিসগুলিতেও এই নির্দেশ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি দফতরে একজন করে নোডাল অফিসার মনোনীত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নাম, পদ, মোবাইল নম্বর এবং সরকারি ই-মেল-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য NSATI-এর কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ

সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু অনলাইন ব্যবস্থার উপর নির্ভর না করে অনলাইন এবং অফলাইন—দুই ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিটি দফতরে Capacity Building Unit গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মীদের কাজের ধরন, দায়িত্ব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিষেবা প্রদানের মান আরও উন্নত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *