ডিমের বিরিয়ানি — সুগন্ধি চাল, ডিম ও আলুর জমজমাট রেসিপি।

Oplus_131072

বিরিয়ানি বললেই অনেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুগন্ধি বাসমতি চাল, মশলাদার মাংস, আলু এবং জাফরানের সুন্দর রং। কিন্তু মাংস ছাড়াও ডিম দিয়ে তৈরি করা যায় অসাধারণ স্বাদের বিরিয়ানি। ডিমের বিরিয়ানি তুলনামূলকভাবে সহজ, খরচও কম এবং বাড়ির রান্নায় বিশেষ দিনের জন্য বেশ উপযোগী।

সেদ্ধ ডিম ও আলুকে হালকা মশলায় ভেজে সুগন্ধি চালের সঙ্গে দমে রান্না করলেই তৈরি হয় এই সুস্বাদু পদ।

রান্নার সময়

  • প্রস্তুতি: ২৫ মিনিট
  • রান্না: ৪০–৪৫ মিনিট
  • মোট সময়: প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট
  • পরিবেশন: ৪ জন

উপকরণ

ডিমের জন্য

  • ডিম — ৫টি
  • হলুদ — ½ চা চামচ
  • লবণ — স্বাদমতো
  • লঙ্কা গুঁড়ো — ½ চা চামচ
  • তেল — ২ টেবিল চামচ

ভাতের জন্য

  • বাসমতি চাল — ২ কাপ
  • জল — প্রয়োজনমতো
  • তেজপাতা — ২টি
  • দারুচিনি — ১ টুকরো
  • এলাচ — ৩টি
  • লবঙ্গ — ৪টি
  • শাহি জিরে — ½ চা চামচ
  • লবণ — স্বাদমতো

বিরিয়ানির মশলার জন্য

  • আলু — ২টি মাঝারি
  • পেঁয়াজ — ৩টি বড়
  • আদা বাটা — ১ টেবিল চামচ
  • রসুন বাটা — ১ টেবিল চামচ
  • টক দই — ½ কাপ
  • কাঁচালঙ্কা — ৩টি
  • লঙ্কা গুঁড়ো — ১ চা চামচ
  • হলুদ — ½ চা চামচ
  • ধনে গুঁড়ো — ১ চা চামচ
  • জিরে গুঁড়ো — ½ চা চামচ
  • গরম মশলা গুঁড়ো — ½ চা চামচ
  • বিরিয়ানি মশলা — ১ চা চামচ
  • ঘি — ২ টেবিল চামচ
  • তেল — ৩ টেবিল চামচ
  • কেওড়া জল — ১ চা চামচ, ঐচ্ছিক
  • গোলাপ জল — ½ চা চামচ, ঐচ্ছিক
  • জাফরান — সামান্য, ঐচ্ছিক
  • উষ্ণ দুধ — ২ টেবিল চামচ

ধাপ ১: ডিম সেদ্ধ

একটি পাত্রে ৫টি ডিম রাখুন এবং ডিম ডুবে যায় এমন পরিমাণ জল দিন।

মাঝারি আঁচে ৯–১০ মিনিট সেদ্ধ করুন।

ডিম সেদ্ধ হয়ে গেলে গরম জল ফেলে ঠান্ডা জল দিন। এরপর খোসা ছাড়িয়ে নিন।

প্রতিটি ডিমে হালকা করে ছুরি দিয়ে ২–৩টি দাগ কেটে দিন। এতে পরে মশলার স্বাদ ডিমের মধ্যে ভালোভাবে ঢুকবে।

ধাপ ২: ডিম মশলা দিয়ে ভাজা

ডিমের গায়ে সামান্য লবণ, হলুদ ও লঙ্কা গুঁড়ো মাখিয়ে নিন।

কড়াইয়ে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে ডিমগুলো হালকা ভেজে নিন।

ডিমের গায়ে হালকা সোনালি রং এলেই তুলে রাখুন।

খুব বেশি ভাজার দরকার নেই।

ধাপ ৩: আলু প্রস্তুত

আলু খোসা ছাড়িয়ে বড় টুকরো করে কাটুন।

সামান্য লবণ ও হলুদ মাখিয়ে একই কড়াইয়ে আলু হালকা ভেজে নিন।

আলু সম্পূর্ণ সেদ্ধ করার দরকার নেই। বাইরে হালকা রং এলেই তুলে রাখুন।

ধাপ ৪: বেরেস্তা তৈরি

৩টি বড় পেঁয়াজ পাতলা করে কেটে নিন।

কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ ধীরে ধীরে ভাজুন।

পেঁয়াজ সোনালি বাদামি হয়ে গেলে তুলে নিন।

এটাই বিরিয়ানির বেরেস্তা

তবে পেঁয়াজ বেশি কালো করবেন না। তাহলে বিরিয়ানিতে তেতো স্বাদ আসতে পারে।

ধাপ ৫: চাল ধুয়ে ভিজিয়ে রাখা

বাসমতি চাল ২–৩ বার ধুয়ে ২০–৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন।

এর ফলে চালের দানা সুন্দরভাবে ফুলবে এবং রান্নার সময় সহজে ভেঙে যাবে না।

ধাপ ৬: চাল ৭০ শতাংশ সেদ্ধ করা

একটি বড় পাত্রে পর্যাপ্ত জল ফুটতে দিন।

এর মধ্যে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, শাহি জিরে ও লবণ দিন।

জল ফুটে উঠলে ভেজানো চাল দিয়ে দিন।

চাল প্রায় ৭০ শতাংশ সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।

একটি চাল হাতে নিয়ে চাপ দিলে বাইরে নরম কিন্তু ভেতরে সামান্য শক্ত থাকবে—এই অবস্থাতেই চাল ঝরিয়ে নিতে হবে।

অতিরিক্ত সেদ্ধ করবেন না।

ধাপ ৭: বিরিয়ানির মশলা তৈরি

একটি ভারী তলার কড়াইয়ে তেল ও ১ টেবিল চামচ ঘি দিন।

বাকি কুচি করা পেঁয়াজ দিয়ে হালকা ভাজুন।

এরপর আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে ভালোভাবে কষুন।

কাঁচালঙ্কা যোগ করুন।

এবার হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো ও জিরে গুঁড়ো দিন।

আঁচ কমিয়ে ভালোভাবে কষতে থাকুন।

ধাপ ৮: দই যোগ করা

দই আগে ভালো করে ফেটিয়ে নিন।

আঁচ একেবারে কমিয়ে দই ধীরে ধীরে মশলার মধ্যে দিন।

একটানা নাড়তে থাকুন, যাতে দই কেটে না যায়।

মশলা থেকে তেল আলাদা হতে শুরু করলে বুঝবেন কষানো ঠিক হয়েছে।

ধাপ ৯: আলু ও ডিম মেশানো

এবার ভেজে রাখা আলু কড়াইয়ে দিন।

সামান্য জল দিয়ে ঢেকে ৫–৭ মিনিট রান্না করুন, যাতে আলু ভেতর থেকে নরম হয়।

এরপর ভাজা ডিমগুলো দিয়ে আরও ২ মিনিট মশলার সঙ্গে মিশিয়ে নিন।

খুব বেশি নাড়বেন না।

ধাপ ১০: বিরিয়ানি সাজানো

এবার ভারী তলার একটি পাত্র নিন।

প্রথমে নিচে মশলা ও আলু-ডিমের একটি স্তর দিন।

তার ওপর অর্ধেক সেদ্ধ বাসমতি চাল ছড়িয়ে দিন।

তার ওপর কিছু বেরেস্তা, সামান্য ঘি এবং কাঁচালঙ্কা দিন।

এরপর আবার ডিম-আলুর মশলার স্তর দিন।

সবশেষে বাকি চাল দিয়ে উপরের স্তর তৈরি করুন।

ধাপ ১১: জাফরানের দুধ

জাফরান ব্যবহার করলে ২ টেবিল চামচ উষ্ণ দুধে জাফরান ৫–১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।

তারপর সেই দুধ বিরিয়ানির ওপর ছড়িয়ে দিন।

এতে সুন্দর রং ও সুগন্ধ তৈরি হবে।

জাফরান না থাকলে এটি বাদ দিতে পারেন।

ধাপ ১২: দমে রান্না

উপরে বাকি ঘি, বেরেস্তা এবং সামান্য কেওড়া জল বা গোলাপ জল ছড়িয়ে দিন।

পাত্রের ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ করুন।

চুলায় প্রথমে ২–৩ মিনিট মাঝারি আঁচে রাখুন।

তারপর আঁচ একেবারে কমিয়ে ১৫–২০ মিনিট দমে রান্না করুন।

চুলা বন্ধ করে আরও ১০ মিনিট ঢাকনা খুলবেন না।

এই সময়ে চালের মধ্যে ডিম, মশলা, ঘি ও সুগন্ধি উপকরণের স্বাদ ভালোভাবে মিশে যাবে।

পরিবেশনের আগে

ঢাকনা খোলার পর সঙ্গে সঙ্গে জোরে নাড়বেন না।

একটি বড় চামচ দিয়ে নিচ থেকে ওপরের দিকে আস্তে আস্তে বিরিয়ানি উল্টে মিশিয়ে নিন।

তাহলে চালের দানা ভাঙবে না।

কীসের সঙ্গে পরিবেশন করবেন?

ডিমের বিরিয়ানি পরিবেশন করতে পারেন—

  • পেঁয়াজের রায়তা
  • শসার রায়তা
  • টমেটো-পেঁয়াজের সালাদ
  • বোরহানি
  • সেদ্ধ ডিম
  • শসা ও পেঁয়াজের সালাদ

এর সঙ্গে একটি হালকা রায়তা থাকলে মশলাদার বিরিয়ানির স্বাদ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

বিরিয়ানি ঝরঝরে রাখার টিপস

১. ভালো মানের বাসমতি চাল ব্যবহার করুন।

২. চাল বেশি সেদ্ধ করবেন না।

৩. চাল ভেজানোর পর অতিরিক্ত জল ভালোভাবে ঝরিয়ে নিন।

৪. দমের সময় বারবার ঢাকনা খুলবেন না।

৫. বিরিয়ানি রান্নার পর অন্তত ১০ মিনিট বিশ্রাম দিন।

৬. চাল মেশানোর সময় চামচ দিয়ে জোরে নাড়বেন না।

ঝাল কমানোর উপায়

কম ঝাল চাইলে কাঁচালঙ্কা ও লঙ্কা গুঁড়োর পরিমাণ কমিয়ে দিন।

বিরিয়ানির সঙ্গে ঠান্ডা রায়তা পরিবেশন করলে ঝালের অনুভূতিও অনেকটা কমে।

একটু রেস্তোরাঁ-স্টাইল স্বাদের জন্য

শেষে সামান্য ঘি, বেরেস্তা এবং কেওড়া জল ব্যবহার করলে বিরিয়ানিতে আরও গভীর সুগন্ধ আসবে।

তবে কেওড়া জল বেশি দেবেন না। অতিরিক্ত দিলে স্বাভাবিক বিরিয়ানির গন্ধ ঢেকে যেতে পারে।

উপসংহার

ডিমের বিরিয়ানি এমন একটি পদ, যা খুব বেশি খরচ ছাড়াই বাড়িতে বিশেষ দিনের খাবারের অনুভূতি এনে দিতে পারে। সুগন্ধি বাসমতি চাল, মশলায় ভাজা ডিম, নরম আলু, বেরেস্তা এবং ঘি—সবকিছুর সমন্বয়ে তৈরি হয় দারুণ একটি সম্পূর্ণ খাবার।

মাংস ছাড়াই বিরিয়ানির স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে ডিমের বিরিয়ানি অবশ্যই একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *