ধূপগুড়ির জমি নিয়ে বিবাদে নয়া মোড়, বিক্রি হওয়া জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ।

ধূপগুড়ির জমি নিয়ে বিবাদে নয়া মোড়, বিক্রি হওয়া জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ, পাল্টা থানায় অভিযোগের দাবি

জলপাইগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ধূপগুড়ির মাগুরমারি-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জমি নিয়ে বিবাদকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন আগে বিক্রি হওয়া একটি জমি দখলের চেষ্টা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ঘটনাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী তথা বর্তমানে নির্দল হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় এক নেতার বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, যে জমিকে কেন্দ্র করে বর্তমান বিবাদের সূত্রপাত, সেটি ১৯৯২ সালে নির্দিষ্ট মূল্যে বুলেন্দ্রনাথ রায়ের কাছ থেকে নরেশ সরকার ও তাঁর পরিবার কিনেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন নরেশ সরকার ও তাঁর স্ত্রী তাপসী সরকার। তাঁদের দাবি, জমিটির রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত নথিও তাঁদের কাছে রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, ২০২০ সালে ওই জমির দখলকে কেন্দ্র করে তৎকালীন মাগুরমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাবেরী রায় এবং তাঁর স্বামী মধুসূদন রায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ধূপগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাপসী সরকার। পরবর্তীতে ২০২১ সালেও আরও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকেই জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলতে থাকে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে, তৃণমূলের শাসনকালের শেষ দিকে একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাবেরী রায় ও মধুসূদন রায়কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচনে মধুসূদন রায় নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বলেও জানা যায়।

অন্যদিকে, জমির মালিকানা নিয়ে বিবাদে থাকা পরিবারটির আরও অভিযোগ, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে অসচ্ছল অবস্থায় রয়েছেন। বিজেপি করার কারণে তৃণমূল আমলে সরকারি ঘর, শৌচালয়-সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। এমনকী জমি ছেড়ে দিলে সরকারি ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি জমি সংক্রান্ত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই পরিবারের দাবি, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে না এবং বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তা ছড়ানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার দিন তাঁরা নিজেদের জমিতে চাষ করতে গেলে প্রাক্তন প্রধানের পরিবার ও তাঁদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে কাজে বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের পাশে দাঁড়ান বলে দাবি পরিবারের। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন বলে জানা গিয়েছে।

পরিবারের আরও দাবি, ঘটনার বিষয়ে ধূপগুড়ি থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধেও তাঁরা সরব হয়েছেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাপসী সরকার ও তাঁর পরিবার ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। জমিটি তাঁদের নামে রেজিস্ট্রি রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা এবং দখল সংক্রান্ত বিষয় বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন হলে তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে।

এ বিষয়ে ধূপগুড়ি পশ্চিম মণ্ডলের সম্পাদক শিবু রায় অভিযোগ করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হবে। অসহায় পরিবারটির পাশে তাঁরা দলীয়ভাবে রয়েছেন এবং আইন মেনে পরিবারের ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত নির্দল নেতা মধুসূদন রায়ের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেন বলে জানা গিয়েছে।

জমির মালিকানা, দখল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে এখন নজর আদালত ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *