ঝুঁকিপূর্ণ আলু চাষ ছেড়ে ভুট্টায় ঝুঁকুন, ধূপগুড়ির প্রশিক্ষণ শিবির থেকে ডাক সহ কৃষি আধিকারিকের, আলুর বিকল্প ভুট্টা, মিলবে সরকারি বীজ।

ধুপগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা:-আলু চাষের অনিশ্চয়তা ও লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের এবার বিকল্প চাষের দিশা দেখাল কৃষি দফতর। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এবং ধূপগুড়ি সহ কৃষি অধিকর্তার করণের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে কৃষকদের ভুট্টা ও রাগী চাষের প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী করা হলো। এদিন আমন ধান ও রাগী চাষের ওপর ‘মাঠ দিবস উদযাপন’ উপলক্ষে ধূপগুড়ি এডিএ অফিসের সভাকক্ষে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়। যেখানে ব্লকের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষিপদ্ধতির পাঠ দেন বিশেষজ্ঞরা।এদিনের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে ধূপগুড়ি ব্লকের সহ কৃষি আধিকারিক খুরশেদ আলম কৃষকদের উদ্দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রতি বছর আলু চাষ করতে গিয়ে কৃষকরা যে বিপুল আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হন, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আলুর বিকল্প হিসেবে তিনি ভুট্টা চাষের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। খুরশেদ আলম কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “ভুট্টা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নতমানের বীজ কৃষি অফিস থেকেই কৃষকদের প্রদান করা হবে।” ফলে বীজের জন্য কৃষকদের বাড়তি কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না।শিবিরে আমন ধানের পাশাপাশি রাগী চাষের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার জন্য কৃষকদের কাছে আবেদন জানানো হয়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, কম খরচে এবং কম জলেই রাগী চাষ করা সম্ভব। বর্তমান বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে। প্রখ্যাত কৃষি বিশেষজ্ঞ কল্লোল দে তাঁর বক্তব্যে কৃষকদের আধুনিক চাষের বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রথাগত চাষের বাইরে বেরিয়ে রাগী ও ভুট্টার মতো লাভজনক ও কম ঝুঁকিপূর্ণ ফসলের চাষ করলে কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি সম্ভব।”
কৃষকদের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার বড়সড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করেছে এই শিবির থেকে। জানানো হয়, চাষের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে সরকার কৃষকদের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেবে। অর্থাৎ, যন্ত্রপাতির মোট খরচের একটা বড় অংশই বহন করবে রাজ্য সরকার।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি কৃষাণ মোর্চার জেলা সাধারণ সম্পাদিকা বিনা রায়, পশ্চিম মণ্ডলের সভাপতি পলাশ বসাক, সহ কৃষি আধিকারিক খুরশেদ আলমসহ এলাকার বহু প্রগতিশীল গ্রামীণ কৃষক। কৃষি আধিকারিকদের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি ভাববিনিময় ও আলোচনার মাধ্যমে শিবিরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। প্রশিক্ষণ পর্বের শেষে উপস্থিত সমস্ত কৃষকদের হাতে সরকারি সহায়তায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কীটনাশক বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *