ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন প্রশাসনের।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ক্রমশ জটিল হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার বন্যা পরিস্থিতি। নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টি এবং জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে শিলাবতী ও ঝুমি নদীর জলস্তর বেড়ে প্লাবিত হয়েছে ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোনা এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন রাজ্যের সেচ দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজীব কুমার সিনহা।
ঘাটাল মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে এদিন অনুষ্ঠিত হয় উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, মহকুমা শাসক অনন্য জানা, ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিকরা। বৈঠকে মূলত ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোনার জলমগ্ন এলাকাগুলিতে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ, যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাটও বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান। বৈঠক শেষে প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন রাজীব কুমার সিনহা। দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ত্রাণসামগ্রী। এই দিকে নদীর জল বেড়ে কোথাও বাঁধ উপচে, আবার কোথাও বাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢোকার অভিযোগ উঠেছে। জলমগ্ন হয়েছে বহু চাষের জমি। বেশ কিছু বাড়ি, দোকান, অফিস ও স্কুলেও ঢুকেছে জল। একাধিক রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় বাসিন্দারাও নিজেদের উদ্যোগে নৌকা ব্যবহার করছেন। সামনেই শারদোৎসব। তার আগে বন্যায় বিপর্যস্ত ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোনা এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন কবে ফিরবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে পাম্প চালিয়ে জল বের করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *