গর্ভবতী মেয়ের পেটে লাথি মারার অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদাঃ- জমি নিয়ে দুই প্রতিবেশীর বিবাদে এক গর্ভবতীর মহিলার পেটে লাথি মেরে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি বাড়ি ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটলো মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের চকসাতন গ্রামে। ঘটনায় গুরুতর আহত ওই মহিলাকে স্থানীয় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম সুনীল প্রামানিক। বাকি অভিযুক্তরা পলাতক। ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকা জুড়ে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের চকসাতন গ্রামের বাসিন্দা ফাগু প্রামাণিকের সঙ্গে তার প্রতিবেশী সুদাম প্রামাণিক এবং তার ভাইদের দীর্ঘদিন ধরেই জমি নিয়ে গন্ডগোল চলছিল। হটাৎ ফাগু প্রামানিকের বাড়িতে চড়াও হয় সুদাম প্রামাণিক এবং তার ভাইরা। সেখানে লাঠিসোটা নিয়ে ফাগু প্রামানিকের পরিবারের লোকজনদেরকে বেধড়ক মারধর করে। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি ফাগু প্রামাণিকের ৮ মাসের গর্ভবতী মেয়ে সাবিত্রী প্রামাণিক। গর্ভবতী মেয়ের পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। মেয়েকে বাঁচাতে ছুটে আসলে মা শ্যামা প্রামাণিককেও বেধড়ক মারধর করা হয়। মারের চোটে জ্ঞান হারায় সাবিত্রী এবং শ্যামা প্রামানিক। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে সুদাম প্রামানিক এবং তার ভাই সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। বাকিদের খোঁজে এলাকায় তল্লাশি চলছে।

এ প্রসঙ্গে ফাগু প্রামানিক জানালেন আমার সঙ্গে একটি জমি নিয়ে সুদাম প্রামাণিকের পরিবারের দীর্ঘদিনের গন্ডগোল।আমি ওই জমিতে ওদের দাবি মত অংশ ছেড়ে দিয়েছি তবুও ওরা পুরো জমি আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায়। এই নিয়ে প্রতিবাদ করলেই আমাদের উপর আক্রমণ করছে। হটাৎ বাড়িতে ঢুকে আমাদেরকে বেধড়ক মারধর করে। আমার স্ত্রী এবং মেয়ে গুরুতর ভাবে আহত হয়ে যায়। ওদের অত্যাচারে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।

ফাগু প্রামাণিকের ছেলে নিরঞ্জন প্রামানিক বলেন অনেকদিন ধরে জমি নিয়ে একটা গন্ডগোল চলছিল। হটাৎ বাড়িতে ঢুকে আমাদেরকে বেধড়ক মারধর করে। আমার মা এবং দিদি গুরুতর ভাবে আহত হয়ে যায়। আমার দিদি ৮ মাসের গর্ভবতী ছিল। দিদির পেটে লাথি মারার পর মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তারপরে হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আমরা চাই তাদের যেন শাস্তি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *