
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ২১শে জুলাইয়ের সকালে বিড়লা তারা-মণ্ডলের
এসএসকেএম হাসপাতালের ঠিক উল্টোদিকে তৈরি হওয়া বিশালাকার মঞ্চ থেকে মাইকের আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ছে বহুদূর।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের কোলাহল, স্লোগানের আওয়াজ আর মেগা ফোনের চিৎকার—সব মিলিয়ে এক অন্য আবহ।
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের চোখেমুখে ক্লান্তির চেয়েও বেশি ফুটে উঠেছে জয়োগোছাল এক আবেগ। তাদের সাথে কথা বললে বোঝা যায়, কেন তারা বহু কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আজ এই কলকাতার বুকে জমায়েত হয়েছেন।
সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর
উত্তর ২৪ পরগনা থেকে আসা এক প্রবীণ সমর্থক বলছিলেন:
”বয়স হয়েছে, তাও প্রতি বছর আসি। ২১শে জুলাই শুধু একটা সভা নয়, এটা আমাদের আবেগ।
যে ১৩ জন তরুণ সেদিন প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের ত্যাগকে সম্মান জানাতেই এখানে আসা।
নেত্রীর একটা কথা শুনতে পাওয়ার মধ্যেই সব কষ্ট সুদে-আসলে উশুল হয়ে যায়।”
বর্ধমান মেদিনীপুর, মালদা, দুই ২৪ পরগনা হুগলী থেকে আসা এক তরুণের কথায়:
”সকাল থেকে খাওয়া নেই, রোদে ঘেমেছি, হাঁটতে হয়েছে অনেকখানি।
কিন্তু এসব কিছুই মনে হচ্ছে না, যখন চারপাশের এই বিশাল জনস্রোত দেখছি।
চুঁচুড়া থেকে আসা প্রাক্তন উপ প্রধান রুটি ও ডিমের তরকারি নিয়ে ফুটপাতে বসে খাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা নিয়ে আমরা ফিরব।”
আবার ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক স্থানীয় গৃহবধূর মন্তব্য:
তবে কলকাতার মানুষ তো এই দিনটার সাথে বহু বছর ধরে অভ্যস্ত।
এত মানুষের উৎসাহ আর তাদের চোখের উদ্দীপনা দেখলে বুঝতে পারা যায়, মানুষের আবেগ এখনও কতটা জীবন্ত।”
এক নজর কাড়া পরিবেশ
দুপুরের কড়া রোদ কিংবা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি এই জমায়েতকে। এসএসকেএমের সামনে থেকে শুরু করে ক্যাথেড্রাল রোড, জওহরলাল নেহেরু রোড—চারদিকে শুধু মানুষের মাথা। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কেউ আবার নেত্রীর ছবি আঁকা টুপি মাথায় দিয়ে আনন্দে সামিল হয়েছেন।
বিকেল গড়ালেও মানুষের আসার ঢল থামেনি। ২১শে জুলাইয়ের এই শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠান শুধু একটা রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, উপস্থিত সাধারণ মানুষের বক্তব্য আর আবেগে তা রূপ নিয়েছে এক বিশালাকার বার্ষিক গণ-উৎসবের।












Leave a Reply