
ইতিহাসে কিছু মানুষের পরিচয় তাঁদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে নয়, তাঁদের কণ্ঠ দিয়ে তৈরি হয়। উষা মেহতা ছিলেন তেমনই একজন। তিনি সৈনিক ছিলেন না, হাতে বন্দুকও তুলে নেননি। কিন্তু ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ শাসনের কঠোর সেন্সরশিপের সময় একটি গোপন রেডিও স্টেশনের মাধ্যমে মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত হয়ে তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অসাধারণ অধ্যায়ের অংশ হয়ে ওঠেন।
মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি বুঝেছিলেন—যখন সংবাদপত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে, প্রকাশ্যে খবর বলা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন পথ দরকার। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় Congress Radio বা গোপন কংগ্রেস রেডিও।
তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসত সেই পরিচিত ঘোষণা—“This is the Congress Radio…”। সেই কণ্ঠ তখন অনেক মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিল নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও খবর শোনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ছোটবেলা থেকেই অন্যরকম মানসিকতা
উষা মেহতার জন্ম ২৫ মার্চ ১৯২০ সালে গুজরাটের সুরাট জেলার কাছে সারস গ্রামে। তাঁর বাবা ছিলেন বিচারক। অর্থাৎ এমন একটি পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা, যেখানে সরকারি চাকরির পরিবেশ ছিল।
কিন্তু ছোটবেলা থেকেই স্বাধীনতার প্রশ্ন তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল।
১৯২৮ সালে, মাত্র আট বছর বয়সে, তিনি সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। সেই সময় তাঁর বয়স এতটাই কম ছিল যে স্বাধীনতার রাজনীতি সম্পর্কে গভীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করার বয়স হয়নি। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মনে শৈশবেই জায়গা করে নিয়েছিল।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ আরও সুসংগঠিত হয়।
পড়াশোনা এবং স্বাধীনতার টান
উষা মেহতা উচ্চশিক্ষার জন্য বোম্বেতে যান এবং Wilson College-এ পড়াশোনা করেন।
তাঁর পড়াশোনার সময়েই স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনাকে তিনি কাছ থেকে দেখতে পান। মহাত্মা গান্ধীর চিন্তা ও অহিংস আন্দোলনের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।
১৯৪২ সালে যখন ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন শুরু হয়, তখন তিনি মাত্র ২২ বছরের তরুণী।
সেই সময় ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে। সংবাদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে উষা মেহতা প্রচলিত পথে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বদলে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার কথা ভাবেন।
এই সিদ্ধান্তই তাঁকে ইতিহাসে বিশেষ করে তোলে।
কেন দরকার হয়েছিল গোপন রেডিও?
১৯৪২ সালের আগস্টে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার আন্দোলন দমন করতে ব্যাপক গ্রেফতারি ও সেন্সরশিপ চালায়।
বহু রাজনৈতিক নেতা কারাগারে চলে যান। সংবাদপত্রের ওপরও চাপ ছিল। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কী ঘটছে, সাধারণ মানুষ তা সবসময় নির্ভরযোগ্যভাবে জানতে পারছিলেন না।
উষা মেহতা মনে করেছিলেন, একটি নিজস্ব রেডিও ট্রান্সমিটার থাকলে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে খবর মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
তিনি পরে স্মৃতিচারণে বলেছিলেন, সংবাদপত্রের ওপর যখন নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং খবর প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়, তখন একটি ট্রান্সমিটার মানুষের কাছে ঘটনাগুলির খবর পৌঁছে দিতে পারে।
এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনা।
কারণ তখন রেডিও ট্রান্সমিটার ব্যবহারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। গোপন রেডিও পরিচালনা করা মানে ব্রিটিশ প্রশাসনের নজরে পড়ার বড় ঝুঁকি নেওয়া।
জন্ম নিল Congress Radio
১৯৪২ সালের আগস্টের শেষ দিকে বোম্বে থেকে গোপনে সম্প্রচার শুরু করে Congress Radio।
উষা মেহতা ছিলেন এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও কণ্ঠস্বর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভিঠলভাই ঝাভেরি, চন্দ্রকান্ত ঝাভেরি, বাবুভাই ঠাক্কারসহ আরও অনেকে। রেডিও প্রযুক্তির সহায়তায় ছিলেন কয়েকজন অপেশাদার রেডিও অপারেটরও।
রেডিওটি এক জায়গায় স্থায়ীভাবে থাকত না।
কারণ ব্রিটিশ পুলিশ যাতে সেটির অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে, তার জন্য কয়েক দিন পরপর সম্প্রচারের স্থান পরিবর্তন করা হতো।
কখনও বাড়ি, কখনও অন্য কোনো গোপন স্থান—এইভাবে যন্ত্রপাতি নিয়ে দলটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেত।
একটি রেডিও স্টেশন চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে প্রতিদিন পুলিশের নজর এড়িয়ে সেটি চালিয়ে যাওয়া ছিল আরও কঠিন কাজ।
সেই কণ্ঠের পরিচয়
রেডিও সম্প্রচারের শুরুতে উষা মেহতার কণ্ঠে শোনা যেত পরিচিত ঘোষণা—
“This is the Congress Radio calling…”
তারপর সম্প্রচার শুরু হতো।
রেডিওতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খবর, রাজনৈতিক বক্তব্য, আন্দোলন-সংক্রান্ত তথ্য এবং বিভিন্ন নেতার রেকর্ড করা বার্তা প্রচার করা হতো। ইংরেজি ও হিন্দুস্তানি—দুই ভাষাতেই সম্প্রচার করা হতো।
সেই সময়ে এই সম্প্রচারের গুরুত্ব ছিল বিশেষ।
কারণ সরকারি সংবাদমাধ্যমের বাইরে দেশের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে মানুষ তথ্য পেতে পারছিলেন।
চট্টগ্রাম, জামশেদপুর, বালিয়া, আস্টি ও চিমুরের মতো বিভিন্ন এলাকার ঘটনাও সম্প্রচারে উঠে এসেছিল বলে পরবর্তী স্মৃতিচারণ ও গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
মাত্র তিন মাসের অভিযান
Congress Radio দীর্ঘদিন চলেনি।
১৯৪২ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন মাস এটি সম্প্রচার চালাতে সক্ষম হয়।
এই সময়ের মধ্যে ব্রিটিশ প্রশাসন রেডিওটির সন্ধান পেতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রচার কেন্দ্র বারবার বদলানো হলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাদের কাছে পৌঁছে যায়।
১৯৪২ সালের ১২ নভেম্বর গোপন রেডিওর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং উষা মেহতাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
একটি মাত্র রেডিও স্টেশন কয়েক মাস চলেছিল।
কিন্তু সেই কয়েক মাসের ইতিহাস ভারতীয় সম্প্রচারের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।
গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ
গ্রেফতারের পর উষা মেহতার জন্য শুরু হয় আরও কঠিন অধ্যায়।
তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে চাইছিলেন রেডিওর সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, কোথা থেকে যন্ত্রপাতি এসেছিল এবং কারা বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেছিলেন।
কিন্তু তিনি সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে রাজি হননি।
তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি ১৯৪২ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কারাবন্দি ছিলেন এবং ইয়েরওয়াড়া জেলে থাকার সময় তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।
স্বাধীনতার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার সবচেয়ে কঠিন দিকটি ছিল এখানেই—রেডিও চালানোর সময় যতটা ঝুঁকি ছিল, গ্রেফতারের পর সেই সিদ্ধান্তের মূল্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয়েছিল।
স্বাধীনতার পরে নতুন জীবন
১৯৪৬ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর উষা মেহতা স্বাধীন ভারতের জন্য নতুন ধরনের কাজ শুরু করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে বড় কোনো পদ গ্রহণ করেননি। বরং শিক্ষা ও গবেষণার জগতে নিজেকে যুক্ত করেন।
তিনি গান্ধীয় চিন্তা ও ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে গবেষণা ও শিক্ষাদানের কাজে দীর্ঘ সময় কাটান।
পরবর্তী জীবনে তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও গান্ধীয় চিন্তার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে কাজ করেন।
অর্থাৎ স্বাধীনতার পরে তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় ছিল জ্ঞানচর্চার।
যে তরুণী একসময় গোপন রেডিওর মাধ্যমে খবর প্রচার করেছিলেন, তিনিই পরবর্তী জীবনে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে গবেষণা ও শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেন।
‘রেডিও বেন’
কারাগার থেকে মুক্তির পর উষা মেহতার পরিচিতির সঙ্গে জড়িয়ে যায় একটি বিশেষ নাম—‘রেডিও বেন’।
এই নামটি এসেছে Congress Radio-র সঙ্গে তাঁর ভূমিকার কারণে।
একসময় যে রেডিও ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের চোখে বেআইনি একটি গোপন সম্প্রচার কেন্দ্র, স্বাধীনতার পরে সেটিই তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিচয়ে পরিণত হয়।
তাঁর সেই সময়কার কণ্ঠ বহু বছর পরে আবার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে আসে, যখন Congress Radio নিয়ে বই, গবেষণা এবং চলচ্চিত্র তৈরি হয়।
তাঁর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
উষা মেহতার জীবনকে শুধু ১৯৪২ সালের ঘটনায় সীমাবদ্ধ করা ঠিক হবে না।
স্বাধীনতার পরে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গান্ধীয় দর্শন, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং রাজনৈতিক চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করেন।
তিনি ছিলেন শিক্ষক ও গবেষক।
এই পরিবর্তনটি তাঁর জীবনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
স্বাধীনতার আগে তিনি ছিলেন একজন তরুণ কর্মী, যিনি যোগাযোগের একটি নতুন মাধ্যমকে ব্যবহার করেছিলেন।
স্বাধীনতার পরে তিনি হয়ে ওঠেন শিক্ষক ও গবেষক, যিনি সেই স্বাধীনতা আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেন।
সম্মান
উষা মেহতার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করে ১৯৯৮ সালে।
তিনি ২০০০ সালের আগস্টে ৮০ বছর বয়সে মারা যান।
তাঁর মৃত্যুর পরও Congress Radio-র ইতিহাস ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
প্রযুক্তিকে মানুষের কণ্ঠে পরিণত করা
উষা মেহতার জীবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হল—তিনি প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করেছিলেন।
রেডিও তখন ছিল আধুনিক যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে কোনো আন্দোলন তৈরি করে না।
মানুষই প্রযুক্তিকে একটি উদ্দেশ্য দেয়।
উষা মেহতা সেই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেছিলেন মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
একটি ছোট ট্রান্সমিটার, কয়েকজন তরুণ-তরুণী, সীমিত সরঞ্জাম এবং পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা—এই সামান্য উপকরণ দিয়েই তাঁরা এমন একটি যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন, যা কয়েক মাসের জন্য হলেও সরকারি সেন্সরশিপের বাইরে একটি বিকল্প কণ্ঠ তৈরি করেছিল।
ইতিহাসের পাতায় তাঁর বিশেষ স্থান
স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বহু নারী মিছিল করেছেন, কারাবরণ করেছেন, বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন বা সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
উষা মেহতার পথটি ছিল কিছুটা আলাদা।
তিনি বুঝেছিলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে শুধু মাঠে থাকা নয়—তথ্য ও যোগাযোগের নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই তিনি মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
তাঁর অস্ত্র ছিল শব্দ।
তাঁর মাধ্যম ছিল রেডিও তরঙ্গ।
আর তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি সময়ে মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া, যখন সেই খবর পৌঁছনোর পথ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল।
উপসংহার
উষা মেহতার জীবন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এমন একটি অধ্যায়, যেখানে সাহসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল প্রযুক্তি ও যোগাযোগের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার।
মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি Congress Radio-র সঙ্গে যুক্ত হন। কয়েক মাস ধরে গোপন স্থান থেকে সম্প্রচার চালানো, পুলিশের নজর এড়ানো এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ—সবকিছুই তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
কিন্তু তাঁর গল্প শুধু সংগ্রামের নয়।
স্বাধীনতার পরে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। অর্থাৎ তাঁর জীবনের প্রথম অধ্যায় ছিল স্বাধীনতার জন্য কণ্ঠস্বর তৈরি করা, আর পরের অধ্যায় ছিল সেই স্বাধীনতার ইতিহাসকে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা।
আজ রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু একসময় একটি ছোট গোপন রেডিও ট্রান্সমিটারই ছিল মানুষের কাছে খবর পৌঁছানোর সাহসী মাধ্যম।
সেই মাইক্রোফোনের সামনে বসা তরুণী উষা মেহতার কণ্ঠ তাই শুধু অতীতের একটি সম্প্রচার নয়।
সেটি ভারতীয় ইতিহাসে এমন এক সময়ের স্মৃতি, যখন তথ্যও হয়ে উঠেছিল সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।












Leave a Reply