
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পুজোর আগে জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ ‘দিশা’ বৈঠক। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না—তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এই বৈঠকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, বিধায়ক শংকর গুছাইত-সহ জেলার অন্যান্য জনপ্রতিনিধি। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রথম সারির আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেক দপ্তরের অধীনে চলা উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুজোর মুখে জেলার রাস্তাঘাট, পরিষেবা, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলির পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা এবং সাধারণ মানুষ যাতে তার সুফল পান, সেদিকেও প্রশাসনের তরফে নজর দেওয়ার কথা উঠে আসে বৈঠকে। তবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্যতম বড় সমস্যা জঙ্গলমহলে হাতির উপদ্রব নিয়েও আলোচনা হয়। জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় হাতির গতিবিধি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পুজোর সময় মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
পুজোর সময় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ভিড় বাড়ে। ফলে সেই সময় যাতে কোনও ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, জনজীবন স্বাভাবিক থাকে এবং প্রশাসনিক পরিষেবা ঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই বিষয়গুলিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বৈঠক শেষে সাংসদ জুন মালিয়া জানান, পুজোর আগে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, জেলার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ যাতে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা পান, সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, পুজোর আগে উন্নয়নের কাজের গতি, সাধারণ মানুষের পরিষেবা এবং জঙ্গলমহলের হাতি সমস্যা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখেই পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনের ‘দিশা’ বৈঠক।












Leave a Reply