মনিরুল হক, কোচবিহার: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে দিনহাটার পুঁটিমারী শিমুল তলায় মৃত বিজেপি নেতা প্রশান্ত রায় বসুনিয়ার বাড়িতে এসে এমনই অভিযোগ করলেন বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি। দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গতকাল রাতে কোচবিহারে আসেন এই বিজেপি নেতা। এদিন সকালে কোচবিহার রাজবাড়ি পরিদর্শন করেন। এরপর দিনহাটায় আসেন তিনি। মৃত বিজেপি নেতা প্রশান্ত রায় বসুনিয়ার বাবা-মার সঙ্গে কথা বলেন। তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার ও পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন সুশীল মোদি।
বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর তোপ,‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে। পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা নিচ্ছে না। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ওইসব পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিন তিনি বলেন, “এই ঘটনায় যাতে সিবিআই তদন্ত হয় সেই বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আমি আলোচনা করব। কারণ রাজ্যের পুলিশ সঠিকভাবে নিজের কাজ করছে না। রাজ্যে সরকার যে দলেরই হোক,পুলিশ প্রশাসনকে সবসময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়। কিন্তু এই রাজ্যের পুলিশ তা করছে না। এখানকার তৃণমূল সরকার তাঁদের নিজেদের ক্যাডার বানিয়ে রেখেছে। কিন্তু আমি পুলিশদের বলে দিতে চাই, সবসময় এখানে তৃণমূল সরকার থাকবে না। একদিন বিজেপি সরকারও আসবে,তখন আপনারা বুঝবেন যে কিভাবে কাজ করতে হয়”।
এদিন সুশীল কুমার মোদীর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি-র কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক সুকুমার রায়, বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে, বিধায়ক মিহির গোস্বামী প্রমুখ। গত শুক্রবার দুপুরে নিজের বাড়িতে খুন হন বিজেপি মণ্ডল সম্পাদক প্রশান্ত রায় বসুনিয়া। গোটা ঘটনায় বিজেপি-র তরফে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও পালটা তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই বিজেপি নেতা একজন দুষ্কৃতী ছিলেন। আর যার জেরেই এই খুন। ঘটনার দিন রাতেই মৃত বিজেপি নেতার মা সুচিত্রা রায় বসুনিয়া ১২ জন তৃণমুল নেতা কর্মীর নামে অভিযোগ দায়ের করেন। যে অঞ্চলে ঘটনা ঘটেছে সেই অঞ্চলের মাত্র তিন জন তৃণমূল নেতা ও ভেটাগুড়ি অঞ্চলের ৬ জন নেতা এবং বাকি তিন জনে দিনহাটার বিভিন্ন অঞ্চলের তৃণমূল নেতাদের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন মৃত বিজেপি নেতার মা সুচিত্রা রায় বসুনিয়া। এরপর এদিন বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মৃত বিজেপি নেতা প্রশান্ত রায় বসুনিয়ার বাড়িতে আসেন।












Leave a Reply