
আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:-ফালাকাটা -সলসলাবাড়ি ৪১ কিমি রাস্তায় ফোর লেন বা মহাসড়কের কাজে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির হয়েছে। সেই অভিযোগ অনেকবার প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এতদিন সেই দুর্নীতির বিরুদ্বে কোনো জনপ্রতিনিধিকে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। রাজ্যে পালাবদল হতেই আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ পেয়েছেন একজন জনপ্রিয় বিধায়ক পরিতোষ দাসকে। যিনিই একমাত্র সাধারণ গরিব মানুষের সমস্যা নিয়ে যে কোনো সময় সোচ্চার হচ্ছেন। সম্প্রতি শালকুমারহাটে এসে তিনি মহাসড়কের দুর্নীতির পর্দাফাঁস করেছিলেন। সেখানে প্রকাশ্যে বলেছিলেন ফালাকাটার এস সরকার নামে এক দালাল ঘর বাবদ ১০-১২ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু সেই দালাল নিজের পরিবারের মেয়ে,জামাই,ছেলে সহ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের দেখিয়ে এক কোটি ১২ লক্ষ টাকা তোলার প্রস্তুতি সেরে ফেলেছিলেন। বিধায়ক নিজেই সেই অভিযোগ পেয়ে পেমেন্টের বুকলেট ধরে ফেলেন। পেমেন্ট বন্ধ হয়। তারপর থেকেই সেই দালাল চক্রের পান্ডারা বিধায়ককে নানাভাবে টাকার প্রলোভন দেওয়া শুরু করেছেন। ক’দিন আগে আলিপুরদুয়ারে প্রকাশ্যে সে কথা ঘোষনা করেন বিধায়ক। তিনি জানান,দুএকদিন আগে বাড়িতে এসে আমাকে একজন বললেন,আমাকে ৬০-৬৫ লক্ষ টাকা দেবেন।গত চার পাঁচ বছর আগে ফোরলেনকে কেন্দ্র করে যে ভয়ংকর দুর্নীতি হয়েছে,সেই দুর্নীতিতে কিছু সমাজের অসাধু ব্যক্তি অনেক গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে তারা কোটি কোটি টাকা লুট করেছে। যারা আজকের দিনে চিহ্নিতকরণ হয়েছে,তার মধ্যে একজন আছেন তাকে হয়তো আগামী দিনে ভয়ংকর সমস্যায় পড়তে হবে। তাই তিনি আমার বাড়িতে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। যে আমাকে ৬০-৬৫ লক্ষ টাকা উনি একবারেই দেবেন,শুধু আমাকে বিষয়টি থেকে সরে যেতে হবে। এই জগত সম্পর্কে আমার জানাই ছিল।
বিধায়কের এমন প্রকাশ্য বক্তব্যে জেলাজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ,ফালাকাটার বালুরঘাট ও শিশাগোড়ের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত মহাসড়কের এক দালাল এক সময় ছাগলের পাইকার ছিলেন। মহাসড়কের সূত্র ধরে বিশেষ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একাধিক আধিকারিক ও আমিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওই দালাল জমি কেলেঙ্কারি করে কোটি কোটি টাকা লুট করেন। এভাবেই ওই দালালের জীবনযাত্রা বদলে যায়। ফালাকাটা শহরে বিরাট বড় বাড়িও কেনেন তিনি। আবার ভুট্টা ব্যবসাও করেন। তবে তৃণমূলের আমলে তিনি বেঁচে গেলেও বিজেপির আমলে পুরো পর্দা ফাঁস হতে শুরু করেছে। অভিযোগ,এই দালালই সম্প্রতি ঘরের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ফেঁসে যান। হয়তো সেই দালালের ভূমিকার কথাই বার বার প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন বিধায়ক পরিতোষ দাস। বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি পর্যন্ত গড়িয়েছে। আগামীতে পুরো দুর্নীতি নিয়ে সিআইডি তদন্তও হতে পারে। এখন ওই দালাল আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাসকে টাকার অফার দিতে শুরু করেছেন। এখন বাকি তদন্ত কতদূর এগোয়,ওই দালালের পরিণতিই বা কি হয় সেটাই দেখার বিষয়।












Leave a Reply