
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ফের প্রশ্নের মুখে মেদিনীপুর পৌরসভার পরিষেবা। শহরের নিকাশি ব্যবস্থা থেকে পানীয় জল সরবরাহ, বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ এবং আর্থিক অনিয়ম—একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্যের পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর।
মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে মেদিনীপুর পৌরসভাকে চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্য দপ্তর। জানা গিয়েছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত চিঠি পৌরসভায় এসে পৌঁছেছে। চিঠিতে পৌর এলাকায় পর্যাপ্ত পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
কী কী অভিযোগ?
রাজ্য দপ্তরের চিঠিতে একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্রের খবর—
১. বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা: সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের একাধিক ওয়ার্ডে জল জমে যাওয়ার অভিযোগ। নিকাশি নালা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়াকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
২. অনিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ: শহরের সর্বত্র নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে বিভিন্ন এলাকায় জমছে আবর্জনার স্তূপ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
৩. পানীয় জলের সংকট: পৌরসভার সব ওয়ার্ডে এখনও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
৪. অস্থায়ী কর্মী নিয়োগে অনিয়ম: অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
৫. আর্থিক অনিয়ম: বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা-সহ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে মেদিনীপুর পৌরসভাকে।
বর্তমানে মেদিনীপুর পৌরসভা তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান। রাজ্য দপ্তরের চিঠি প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, কিছুদিন আগে পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করায় সাময়িকভাবে কিছু পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল। তবে বর্তমানে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। রাজ্য দপ্তর যে রিপোর্ট চেয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত তথ্য দিয়ে সেই রিপোর্ট পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
তবে রাজ্যের এই চিঠি ঘিরে ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর পৌরসভার অন্দরে শুরু হয়েছে তৎপরতা। একের পর এক নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অভিযোগের মধ্যেই এবার রাজ্যের কাছে পৌরসভাকে দিতে হবে পাঁচ দিনের মধ্যে বিস্তারিত জবাব।
প্রশ্ন উঠছে—নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগের কী ব্যাখ্যা দেবে মেদিনীপুর পৌরসভা? রাজ্যের রিপোর্ট তলবের পর এবার নজর গোটা শহরের।












Leave a Reply