
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- এক বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ভেঙেছিল পা। দীর্ঘদিন থাকতে হয়েছিল মাঠের বাইরে। অনেকের কাছে হয়তো সেখানেই থেমে যেত স্বপ্ন। কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুরের তেঁতুলবাড়ির মেয়ে সুদীপ্তা মণ্ডল থামেনি। চোট সারিয়ে ফের মাঠে ফিরে অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পেনাল্টিতে গোল করে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করেছে সে।
শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে ডক্টর তালিমেরেন আউ জুনিয়র গার্লস’ ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মণিপুরকে পেনাল্টিতে ৩–২ গোলে হারায় পশ্চিমবঙ্গ। পেনাল্টিতে গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় সুদীপ্তা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর জাতীয় শিরোপা জেতে বাংলা।
বুধবার বাড়ি ফিরতেই সুদীপ্তাকে ফুলের তোড়া ও মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেন হরিশ্চন্দ্রপুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল হক-সহ এলাকার মানুষ। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ফুটবল। সুদীপ্তার সাফল্যে এলাকার কিশোরীদের মধ্যেও নতুন করে ফুটবল খেলার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রায়গঞ্জ হাতিয়া হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া সুদীপ্তার ফুটবলে হাতেখড়ি সাত বছর বয়সে। বাবা সুবীর মণ্ডলই তাঁর প্রথম কোচ। মা দেবশ্রী দাস গৃহবধূ। পা ভেঙে যাওয়ার পরও অনুশীলন ছাড়েনি সুদীপ্তা। ধীরে ধীরে মাঠে ফিরে আবার নিজের জায়গা তৈরি করেছে।সুদীপ্তার প্রিয় ফুটবলার ব্রাজিলের তারকা নেইমার। তাঁর খেলা দেখতে ভালোবাসে সে। তবে নিজের স্বপ্নও স্পষ্ট—একদিন ভারতের জার্সি গায়ে দেশের হয়ে ফুটবল খেলা।
বাবা সুবীর মণ্ডল বলেন, ‘‘পা ভেঙে যাওয়ার পরও মেয়ে ফুটবল ছাড়েনি। অনেক কষ্ট করে আবার মাঠে ফিরেছে। ওর সাফল্যে আমরা খুব গর্বিত।’’ আমিনুল হক বলেন, ‘‘সুদীপ্তার লড়াই অন্য মেয়েদেরও সাহস দেবে। ওকে দেখে আরও মেয়েরা ফুটবলে আসবে—এটাই আমাদের আশা।’’ চোট তাকে থামাতে পারেনি। বরং সেই চোট পেরিয়েই নতুন স্বপ্নের পথে এগিয়ে গেল সুদীপ্তা।












Leave a Reply