নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ৭০০ তিন বছর পর শুরু হল নদীয়ার কল্যাণীর মাঝেরচর গৌরাঙ্গ প্রভুর ঘাটে কুম্ভ মেলা। বঙ্গ কুম্ভ মেলা পরিষদের উদ্যোগে ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ই ফেব্রুয়ারি পাঁচ দিন ধরে চলবে এই কুম্ভ মেলা। এই মেলা কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে মাঝেরচর চত্বরে । এই মেলায়
মোট ১৩টি আখড়া ও ৪টি সম্প্রদায় যুক্ত রয়েছে । ১৩ই ফেব্রুয়ারি শাহি স্নান হবে গঙ্গায়। তবে ১৩ তারিখের নাহি স্নানের জন্য বসে নেই আপামর দর্শনার্থীরা, তারা ইতিমধ্যে কুম্ভ মেলায় যোগ দিয়ে পূর্ণ স্নান করতে ব্রতী হয়েছেন।
মেলার আহ্বায়ক রা জানাচ্ছেন এবছর কুম্ভস্নানে কয়েকশো নাগা সাধু ও সনাতন ধর্মের বিভিন্ন আখড়া থেকে সন্তরা হাজির হয়েছেন। এই শাহী স্নান এবং কুম্ভ মেলার কারণে তৈরি হয়েছে কমিটি । তারমধ্যে সাধুরা যেমন আছেন, তেমনই রয়েছেন কল্যাণী পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য প্রশাসন। তবে কল্যাণীবাসীরা কিন্তু অনেকটাই খুশি। তার কারণ ৭০৩ বছর পর আবার কুম্ভের আয়োজন করা হলো কল্যাণীর মাঝে চড়ে, সে কারণেই কল্যাণী সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু সংখ্যক মানুষ এই মেলায় অংশগ্রহণ করছেন। তারা জানাচ্ছেন তারা অনেকটাই খুশি। এবং এরকম হাজার হাজার সাধুসন্ত একত্রিত মহা কুম্ভ তাও আবার চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত নদীয়াতে। বলা যেতে পারে কল্যাণীর মহাপ্রভু গৌরাঙ্গ ঘাটেই এই মেলার আয়োজন। এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ গঙ্গা আরতি, যা দেখতে আপামর জনসাধারণ সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছে গঙ্গা তটে, এমনটাই জানাচ্ছেন মেলার আহ্বায়করা । প্রসঙ্গত কিছুদিন আগেই বহু পুণ্যার্থ্রী এবং সাধু সন্তরা যোগ দিয়েছিলেন বাংলার প্রাচীনতম গঙ্গাসাগর মেলায়, তারপর আবার নদীয়ার কল্যাণীতে এরকম কুম্ভ মেলার আয়োজন করার ফলে পুন্যার্থী এবং সাধু-শান্তদের বিপুল জমায়েত সত্যি লক্ষ করার মতো। তবে রানাঘাট পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনিক তৎপরতা মেলা প্রাঙ্গণকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে রেখেছে, এবং দুর্ঘটনা এড়াতে ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং প্রচুর পরিমাণে পুলিশের বন্দোবস্ত রয়েছে গঙ্গা ঘাটে।
বলা যেতেই পারে, নদী আর কুম্ভ মেলা, মহাকুম্ভে পরিণত হতে চলেছে আর তাতে করে মানুষের তথা নদিয়া বাসীর মুকুটে এক নতুন পালক জুড়তে চলেছে।












Leave a Reply