কোতুলপুরের শিল্পীর শিল্পকলা পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে।

আবদুল হাই, বাঁকুড়াঃ বাঁকুড়ার কোতুলপুর এর প্রতিভাময়ী শিল্পী যার হাতের ছোঁয়ায় ধান এবং খড় দিয়ে ফুটে উঠেছে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি এবং আরও অনেক কিছু সামগ্রী ।সেই জিনিসপত্র দেশ-বিদেশে পাড়ি দিয়েছে আজ আবারো পাড়ি দিচ্ছে ছান্দারের অভিব্যক্তিতে।
শিল্পী কোনদিনই প্রচারের আলোয় আসেনি। জন্ম থেকেই বিভিন্ন শিল্পকলা নিয়ে তার জীবন শুরু মায়ের হাত ধরে প্রথম হাতে খড়ি চাঁদ মালা তৈরিতে তারপর সুনিপুণভাবে তৈরি করে চলেছেন একের পর এক দেবদেবীর মূর্তি দুর্গা লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক এমনকি সিংহাসন রথ ইত্যাদি । উপকরণ শুধু ধান খড় আঠা । ছান্দার বিএড কলেজের শিক্ষক স্বর্গীয় উৎপল চক্রবর্তী মহাশয় এর অনুপ্রেরণায় তিনি তৈরি করে চলেছেন একের পর এক দেবদেবীর মূর্তি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ঘর ভর্তি সাজানো রয়েছে ধান দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র গ্রীস ইংল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশের মানুষ তার তৈরি জিনিসপত্র দেখতে এসেছেন তার কোতুলপুরের বাড়িতে । এমনকি অনেককেই তার হাতের তৈরি জিনিস উপহার তুলে দিয়েছেন। এবার সেই প্রতিভাময়ী শিল্পীর তৈরি জিনিসপত্র বাঁকুড়ার ছান্দার কলেজের অভিব্যক্তিতে জমা হতে চলেছে। শিল্পী আর কেউ নন কোতুলপুরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা প্রতিভা ময়ী শিল্পী ছায়া ঘোষ। শিল্পকলাতেই তার অসাধারণ প্রতিভা শুধু তাই নয় তিনি নিজে সংসার না করলেও সাংসারিকদের বিভিন্ন রকম ভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েই চলেছেন। তার দান ধ্যান এর উদারতা মনীষীদের থেকে কিছু কম যায় না । তিনি প্রচারের আলোয় না এলেও তার শিল্পকর্মে তিনি দেশ-বিদেশে আজ পরিচিত । সাহিত্যকর্মেও তার অভাবনীয় প্রতিভা লুকিয়ে রেখেছেন । লেখালেখি তো সমান পারদর্শী তিনি ।কোতুলপুরবাসীর দাবি তিনি যেন একটি আর্টগ্যালারি তৈরি করে বাঁকুড়া বাসিকে তার শিল্পকর্ম দেখার সুযোগ করে দেন। শিল্পী ছায়া ঘোষ তিনি বলেন মোবাইল এর মাধ্যমে সমস্ত কিছুকে হাতের মুঠোয় পাওয়ার ফলেই নতুন প্রজন্ম এই শিল্পকলা কে থেকে কিছুটা হলেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে অনুরোধ করেন পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্পকলাতেও যেন মনোনিবেশ করেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *