পীরবাবার মাজারের চাদর মাথায় নিয়ে পথপরিক্রমায় পা মেলালেন অগণিত ভক্ত।

আবদুল হাই, বাঁকুড়াঃ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন…”হিন্দু না ওরা মুসলিম?”ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?….. সত্যিই মানুষকে ধর্মের বেড়াজালে বেঁধে রাখা যায় না। ধর্মের চেয়েও মনুষত্ব আর মানবিকতা অনেক অনেক বেশি দামি। ধর্ম যার যার, সকল মানুষ সমান। হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরল নজির দেখা গেল বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের শিমুলিয়া দশরথবাটি গ্রামে অবস্থিত পীর বাবার মাজারে।বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের শাসন কালে যে পাঁচ পীরের সন্ধান পাওয়া যায় এই পীরবাবা তাদের মধ্যে একজন।১৯০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের ৮ টি পীরের মাজারের সন্ধান পাওয়া যায়।নন্দী ও মেদ্যা পরিবার বেষ্টিত সিমুলিয়া দশরথবাটি গ্ৰামের মধ্যস্থলে পীরবাবার মাজার। জনশ্রুতিতে জানা যায় মেদ্যা পরিবার প্রথম পীরবাবার সেবাইত ছিলেন। এটি একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতবর্ষের উজ্জ্বল নিদর্শন। সারাদেশে যখন সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা গ্ৰাস করতে চলেছে সভ্যতাকে তখন যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উজ্জ্বল নিদর্শনের ধারাকে আজও উজ্জ্বল থেকে আরো উজ্জ্বলতর করে চলেছে সিমুলিয়া ও দলরথবাটি গ্ৰামের মানুষ। পীরবাবার উরসে জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষের কাছে এক মহামিলনের তীর্থভূমি হয়ে ওঠেছে এই মাজার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং মানব সভ্যতার এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে আজও বিরাজ করছে, অসহিষ্ণু জাতিকে নতুন দেখাচ্ছে আলোর পথ ,যে পথে আছে শান্তি,যে পথে আছে অনাবিল আনন্দ,যে পথে আছে একে অপরের সুখ দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার আন্তরিকতা। পীরবাবার মাজার মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সিমুলিয়া দশরথবাটি গ্ৰামের কোন ছেলে ও মেয়ের বিবাহ হলে,বিয়ের পর দিন আজও পীরবাবার মাজারে গিয়ে সিন্নি খেয়ে তবেই বাড়িতে বর কনে ঢুকবে, এছাড়াও এই এলাকার কোন বাচ্চার মুখে ভাত অনুষ্ঠান হলে প্রথমেই পীরবাবার মাজারে নিয়ে যাওয়া হয় সেই পূর্বতন রীতি মেনেই। ৭ বছরে পা দিল পীরবাবার উরস।এদিন পীরবাবার মাজারের চাদর মাথায় নিয়ে পথপরিক্রমায় অংশগ্রহণ করে আট থেকে আশি বছরের বহু মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *