
শিবপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামীমা বানু র স্বামী শামীম আহমেদ। শিবপুরের সংখ্যালঘু এলাকার ডন বলে পরিচিত। দিন কয়েক আগে ভোটের ফল বেরোনোর পর শিবপুরের চওড়া বস্তি এলাকায় তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ব্যাপক বোমাবাজি এবং বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও চলে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ওঠে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী শামীম আহমেদ ওরফে বড়ের বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনার তদন্তে নামে শিবপুর থানার পুলিশ। জানা যায় ওই ঘটনার পর তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। সোমবার শিবপুর থানার পুলিশ ওই এলাকায় তার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায়। তখনই তার বিলাসবহুল জীবনের ছবি উঠে আসে পুলিশের কাছে। বেসমেন্টে বানানো হয়েছে বিলাসবহুল ঘর। ঘরগুলি সাজানো হয়েছে আধুনিক আসবাবে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গেজেট এবং সিসিটিভি ও লাগানো আছে। পুলিশের তল্লাশির ছবি ভাইরাল হতেই ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।
শিবপুর থানার অন্তর্গত ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেতাজ বাদশা শামিম আহমেদ ওরফে বড়ে। তার স্ত্রী শামীমা বানু ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হাওড়া পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকায় দাপুটে নেতা হিসাবে পরিচিতি পায়। মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। দিন কয়েক আগে ভোটের ফল ঘোষণার পর চওড়া বস্তি এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। বোমাবাজি ও গুলি চালানোর ঘটনার অভিযোগ হয় বড়ে ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ বড়ের মদতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবীতে সরব হয় মধ্য হাওড়ার বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। কিন্তু ঘটনার মাস্টাররমাইন্ড বড়ে ঘটনার পর থেকেই ফেরার আছে। সোমবার বড়ের খোঁজে অভিযান চালায় হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।অভিযান চালাতে গিয়ে তাজ্জব পুলিশ কর্তারা।পুলিশ অভিযানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায় বেসমেন্টে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ঘর বানিয়ে রেখেছে বড়ে।বিলাসবহুল বেডরুম, ড্রয়িং রুম,কিচেন সবই রয়েছে সেখানে।কিন্তু ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে তা কিছুই বোঝা যেত না। বড়ের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা।উল্লেখ্য, বছর তিনেক আগে রাম নবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে এনআইএ র হাতে গ্রেফতার হয় বড়ে। অনেকদিন জেলে থাকার পর মাস কয়েক আগে সে জামিন পায়।












Leave a Reply