তৃণমূলের প্রধান বদল ঘিরে রতুয়ায় ধুন্ধুমার, দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের লাঠিচার্জ।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদার রতুয়া–১ নম্বর ব্লকের চাঁদমনি–১ গ্রাম পঞ্চায়েত। শুক্রবার নতুন প্রধান নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
জানা গিয়েছে, চাঁদমনি–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ২২। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৯টি, সিপিআই(এম) ২টি এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয়ী হয়। পরে ২০১ নম্বর বুথের তৃণমূলের সদস্য রুকসানা খাতুনের মৃত্যুর পর সদস্য সংখ্যা কমে ২১-এ দাঁড়ায়।
অভিযোগ, প্রধান বিবি তানজিমার কাজের ধরন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। অন্যান্য সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে তিনি পঞ্চায়েত পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই জেরে চলতি মাসের ২ জুলাই ১১ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রধান নির্বাচনে ভোটাভুটিতে ১১ জন সদস্যের সমর্থন পান সাকিরুল ইসলাম। অন্যদিকে অপসারিত প্রধান বিবি তানজিমা ১০ জন সদস্যের সমর্থন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। ফলে সাকিরুল ইসলাম চাঁদমনি–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।
প্রধান নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পঞ্চায়েত কার্যালয়ের বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বচসা, বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রতুয়া থানার পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ভিড় ছত্রভঙ্গ করে।
পুলিশের দাবি, প্রধান নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচনের পর কয়েকজন পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে লাঠিচার্জ করা হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *