
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাত পোহালেই মহালয়া। গঙ্গা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর তর্পণকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ও বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্নয সরকার । মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকায় জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোর ৩টে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে ডুবুরি, স্পিডবোট, লাইফ জ্যাকেট ও উদ্ধারকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকবে। এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ-ও মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ঘাটে নোডাল অফিসার, পর্যাপ্ত পুলিশ, মহিলা নিরাপত্তাকর্মী, পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা, বায়ো-টয়লেট, পানীয় জল, ফার্স্ট-এইড ক্যাম্প ও অ্যাম্বুল্যান্স রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাটগুলির পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।আজ সন্ধ্যা থেকে তর্পণ শেষ হওয়া পর্যন্ত নবান্নের স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার-সহ জেলা স্তরে কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। কাছাকাছি হাসপাতালগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, মহালয়ার তর্পণ যাতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
এদিকে মহালয়ার দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে বিশেষ উত্সব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার । বিকেলে রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন পর্যন্ত এক শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন রাজ্যপাল রবীন্দর্ নারায়ণ রবি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লার লোকসংস্কৃতির নানা উপাদান, ঢাক, ধুনুচি, ছৌ-সহ বিভিন্ন জেলার শিল্প-ঐতিহ্যের উপস্থাপনা। তুলে ধরার পাশাপাশি রেড রোডে গড়ে তোলা হয়েছে ১২টি জেলার পৃথক সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। ন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেনে হবে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। থ্রি-ডি প্রজেকশন ম্যাপিং, লেজ়ার শো, আতশবাজি এবং ড্রোন প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং বিশেষ আলোকসজ্জারও আয়োজন করা হয়েছে। আকাশে শত শত ড্রোনের সাহায্যে আলোর নকশা ও শারদোৎসবের নানা প্রতীক ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শুধু কলকাতাতেই নয়, ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও চলবে উৎসবের আসর।












Leave a Reply