
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রেল শহর খড়্গপুরে ছাত্র অক্ষয় ঝা-কে গুলি করার ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। রাস্তায় দুষ্কৃতীদের গুলি চালানোর ঘটনা নয়, বরং দুই বন্ধু বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময়ই গুলি ছিটকে অক্ষয়ের গায়ে লাগে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর গোটা ঘটনাকে অন্যভাবে সাজিয়ে রাস্তায় গুলি চালানোর গল্প তৈরি করার চেষ্টা হয় বলে পুলিশের দাবি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, ঘটনার পর অক্ষয়ের বন্ধু সাগর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। অক্ষয় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সাগরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সাগর ফোন করে আরও তিন বন্ধুকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, সাগরের কথাবার্তায় বেশ কিছু অসঙ্গতি নজরে আসে তদন্তকারীদের। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ধীরে ধীরে গোটা ঘটনার আসল বিষয় সামনে আসে। পুলিশের জেরায় জানা যায়, বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময়ই আচমকা গুলি ছিটকে অক্ষয়ের গায়ে লাগে। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাস্তায় গুলি চালানোর ঘটনা হিসেবে সেটিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তে সাগরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি নাইন এমএম পিস্তল এবং তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, সাগরের বাড়ি থেকে রক্তমাখা জামাকাপড়ও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাগর ছাড়াও আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম বিশাল জানা এবং কোলা জগ্গেশ্বর রাও। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুক রাখা এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাগর যে আরও তিনজনকে ফোন করে নিজের বাড়িতে ডেকেছিল, তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হলেও আরও একজনের খোঁজ চলছে। খড়্গপুর শহরের ব্যস্ত এলাকায় গুলি চলার ঘটনায় প্রথমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু তদন্ত এগোতেই পুলিশের হাতে উঠে এসেছে ঘটনার অন্য ছবি। এখন প্রশ্ন, কীভাবে ওই আগ্নেয়াস্ত্র তাদের হাতে এল, সেটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।












Leave a Reply